বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

লিঁ আর আসবে না

দেখেছ লিঁ,
মাঝ রাত্তিরেও একা একা দিব্যি হেটে চলেছি।
তুমি তো সবসময় বলতে; পৃথিবীর সবথেকে ভীতু ছেলে আমি।
তোমার বলা কোনো কথা কখনওই মিথ্যা ছিলনা। 
তখন আসলেই অনেক ভীতু ছিলাম আমি। 
ঘর থেকে এক কদম বাহিরে যেতে ভয় পেতাম!
মেয়েদের দেখলে অস্বস্তিবোধ করতাম!
লোকজন দেখলেই ক্যামন আঁতকে উঠতাম।
আর এখন দিব্যি মিছিল মিটিং করছি আমি!
মাঝেমাঝে আবার বইয়ের ভাঁজের ফাঁকে মুখ লুকিয়েও বিড়বিড় করি।
সবসময় যে ভাল বই পড়ি তা কিন্তু একদম নয়।
সময় সুযোগ করে-
মায়ের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বেশ কিছু নোংরা বইও পড়ে ফেলি এখন।
অবাক হয়েছ তাইনা?
হওয়াটাই স্বাভাবিক।
আজকের আমিই তো সেদিনের সেই নির্বোধ বালক যে,
সুনীলের সোনালী দুঃখ বইটা পড়ে ভেবেছিল; লেখক এত পঁচা হতে পারে?
সামান্য একটু যৌনতা ছিল বলে সেদিন সুনীল বাবুকে কী গালাগালিটাই না করেছিলাম!
অথচ আজ যৌনতাবিহীন বইটাকে বই বলে স্বীকৃতি দিতেই মন সায় দেয়না।
আমার মনে হয় কি জান?
এর সবটাই যৌবনের বিদ্রোহী তাণ্ডব।
এ যৌবন এমন এক দুঃসাহসী নিয়ন্ত্রক যে,
পৃথিবীর সবথেকে ভীতু ছেলেকেও সবথেকে সাহসী করে গড়ে তোলে।
লাজুক ছেলেটার চোখ থেকে চিরদিনের জন্য নামিয়ে দেয় লজ্জার পর্দাটা।
যে ছেলেটা মেয়েদের ছায়া দেখলে আঁতকে উঠত তাকেও ঠেকেঠুলে পাঠিয়ে দেয় পতিতালয়ে।
একাকীত্ব যে ছেলেটার বুকে কষ্টের হুল ফুটাত
সেই ছেলেটাকে বাধ্য করে একাকীত্বের তাৎপর্য খুঁজতে।
আমিও হয়ত এই যৌবনের তাড়নাতেই মধ্যরাতেও তোমাকে খুঁজে চলেছি।
বাল্যকালে তোমাকে আমার দরকার ছিলনা; অথচ তখনই তুমি আমার সাথে ছিলে।
আজ এই যৌবনে তোমাকে আমার খুব দরকার।
তুমি কি আর আসবে না?
আকাশে কি আমার থেকেও ভাল কেউ থাকে?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন